এই লেখায় যা আছে
- জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- জন্ম তথ্য সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে?
- জন্ম নিবন্ধনে নিজের নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- জন্ম নিবন্ধনের বয়স বা জন্ম তারিখ সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- জন্ম নিবন্ধনে পিতা-মাতার নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করতে কি কি লাগে?
- জন্ম নিবন্ধনের ঠিকানা সংশোধন করতে কি কি লাগে?
- জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
- শেষ কথা
বাংলাদেশে এনআইডি কার্ড হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হলো জন্ম নিবন্ধন সনদ। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের অনেকের জন্ম নিবন্ধনের সাথে স্কুল সার্টিফিকেট, NID, পাসপোর্ট বা অন্যান্য কাগজের তথ্য মিলেনা।
এই অমিলের কারণে পরে চাকরি, পাসপোর্ট, বিদেশ যাওয়া বা সরকারি কাজে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই প্রয়োজন পড়ে জন্ম নিবন্ধনের নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম কিংবা ঠিকানা সংশোধন করার।
কিন্তু অনেকেই জানেন না জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে আসলে কি কি কাগজ লাগে এবং কত টাকা ফি দিতে হয়। সঠিক প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সেটি বাতিলও হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে কি কি লাগে?
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ কাগজপত্র লাগে। তবে মনে রাখতে হবে, সব সংশোধনের জন্য সব কাগজ জমা দিতে হয় না। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হয়।
সাধারণভাবে যেসব কাগজ বেশি ব্যবহৃত হয়ঃ
- জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
- NID Card (যদি থাকে)
- JSC / SSC / সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট
- পাসপোর্ট (থাকলে)
- শিশুর টিকা কার্ড
- পিতা-মাতার NID Card
- প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ বিল বা ঠিকানার প্রমাণ
অনলাইনে আবেদন করলে এসব কাগজ স্ক্যান বা ছবি আকারে আপলোড করতে হয়। আর সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে গেলে ফটোকপি জমা দিতে হয়।
জন্ম তথ্য সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে?
জন্ম নিবন্ধনে সাধারণত যেসব তথ্য সংশোধন করা হয়ঃ
- নিজের নাম
- জন্ম তারিখ
- পিতা বা মাতার নাম
- স্থায়ী ঠিকানা
- বর্তমান ঠিকানা
- বাংলা থেকে ইংরেজি তথ্য
প্রতিটি তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ আলাদা হয়ে থাকে।
জন্ম নিবন্ধনে নিজের নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?
নাম বা নামের বানান সংশোধন করতে সাধারণত যেসব কাগজ লাগেঃ
শিশুর ক্ষেত্রে
- EPI টিকা কার্ড বা হাসপাতালের প্রত্যয়নপত্র
প্রাপ্তবয়স্ক হলে
- JSC / SSC / সমমান সার্টিফিকেট
- নিজের NID Card
- পাসপোর্ট (যদি থাকে)
- প্রযোজ্য হলে কাবিন নামা
নামের বানান বড়ভাবে পরিবর্তন করতে চাইলে অতিরিক্ত কাগজ চাইতে পারে।
জন্ম নিবন্ধনের বয়স বা জন্ম তারিখ সংশোধন করতে কি কি লাগে?
বর্তমানে জন্ম তারিখ সংশোধন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে বয়স কম-বেশি করার চেষ্টা করে।
তবে যদি আগে করা কোনো সরকারি কাগজে ভুল থাকে এবং তা প্রমাণ করা যায়, তাহলে সংশোধনের সুযোগ আছে।
এক্ষেত্রে সাধারণত লাগে
- বোর্ড পরীক্ষার সার্টিফিকেট
- NID Card
- পাসপোর্ট
নোটঃ সব আবেদন এপ্রুভ হয় না। সংশ্লিষ্ট অফিস যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।
জন্ম নিবন্ধনে পিতা-মাতার নাম সংশোধন করতে কি কি লাগে?
পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের জন্য প্রয়োজন হতে পারেঃ
- পিতা-মাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন
- পিতা-মাতার NID Card
- পিতা বা মাতা মৃত হলে মৃত্যু সনদ
- প্রয়োজনে ভাই-বোনের NID Card
এগুলো দিলে আবেদনটি শক্ত হয় এবং অনুমোদনের সম্ভাবনা বাড়ে।
জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি করতে কি কি লাগে?
জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করতে চাইলে সাধারণত লাগেঃ
- বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র (বাংলা ও ইংরেজি নামসহ)
- ব্যক্তির NID Card / পাসপোর্ট
- পিতা-মাতার NID Card
জন্ম নিবন্ধনের ঠিকানা সংশোধন করতে কি কি লাগে?
স্থায়ী ঠিকানা সংশোধনের জন্য
- হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ
- চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র
- NID Card (যদি থাকে)
বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের জন্য
- বিদ্যুৎ / গ্যাস / পানি বিলের কপি
সাধারণত বর্তমান ঠিকানা সংশোধনে বেশি ঝামেলা হয় না।
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সরকারি ফি খুব বেশি না।
| সংশোধনের ধরন | বাংলাদেশে | বিদেশে |
|---|---|---|
| জন্ম তারিখ সংশোধন | ১০০ টাকা | $2 |
| নাম, পিতা-মাতা, ঠিকানা সংশোধন | ৫০ টাকা | $1 |
| সংশোধিত সনদ (বাংলা/ইংরেজি) | ফ্রি | ফ্রি |
| নকল কপি | ৫০ টাকা | $1 |
অনলাইনে ফি দিলে সরকার নির্ধারিত টাকাই লাগে। অফিসে গেলে কেউ বেশি চাইলে আপনি সরকারি ফি অনুযায়ী দিতে বলবেন।
শেষ কথা
জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন কঠিন কিছু না, যদি আপনার কাছে সঠিক কাগজপত্র থাকে। সবচেয়ে ভালো হয় আগে থেকে সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত রেখে আবেদন করলে।